ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শিখব

ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শিখব

তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেটের ব্যবহার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান সময়ে আমাদের দৈনন্দিন বিভিন্ন প্রকার ব্যাক্তিগত এবং প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকাণ্ড সম্পাদনে ইন্টারনেট একটি অপরিহার্য উপাদানে পরিনত হয়েছে। পরিসংখ্যান মতে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পৃথিবীতে মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৪.৩৯ বিলিয়ন এবং ২০২০ সালে তা বেড়ে দাড়িয়েছে প্রায় ৪.৫৭ বিলিয়নে যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৯ শতাংশ। শুধুমাত্র বাংলাদেশেই বর্তমানে প্রায় ৯,৯৯,৮৪,০০০ এক্টিভ ইন্টারনেট ইউজার রয়েছে যা আমাদের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬০.৭ শতাংশ।

বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট ব্যবহারের এই ক্রমবর্ধমান ধারাকে বিবেচনা করে পৃথিবীর  প্রায় সকল ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানই তাদের মার্কেটিং এবং ব্র্যান্ডিং বাজেটের  সিংহভাগই ব্যয় করছে অনলাইন বা ডিজিটাল মার্কেটিং খাতে। Statustia এর রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২০ সালে সারা বিশ্বে ডিজিটাল মার্কেটিং এ ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৩৫.৪৮ বিলিয়ন ডলার। The Daily Star এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৮ সালে শুধুমাত্র বাংলাদেশী কোম্পানিগুলো ডিজিটাল মার্কেটিং এ ব্যয় করেছে প্রায় ১০০০ কোটি টাকা। সুতরাং এটি খুব নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় যে বর্তমান সময়ে ডিজিটাল মার্কেটিং এর যে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে আগামী দিনগুলোতে তা আরও বৃদ্ধি পাবে।

ডিজিটাল মার্কেটিং কী?

এক কথায় বলতে গেলে “ডিজিটাল মার্কেটিং হচ্ছে ইন্টারনেট এর মাধ্যমে মানুষের কাছে নিজের পণ্য ও সেবা সমূহ পৌঁছে দেওয়া।” ব্যাপক অর্থে ডিজিটাল মার্কেটিং হচ্ছে, “অনলাইন ভিত্তিক ডিজিটাল প্রযুক্তি যেমন সার্চ ইঞ্জিন, ওয়েবসাইট, সোশ্যাল মিডিয়া, ইমেইল, মোবাইল এপ্লিকেশন ইত্যাদি ব্যবহার করে নিজেদের পণ্য ও সেবা সামগ্রী টার্গেট কাস্টমার এর কাছে পৌঁছে দেওয়া।”

ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শিখবো?

ডিজিটাল মার্কেটিং বর্তমান সময়ে অন্যতম একটি চাহিদা সম্পন্ন স্কিল। জব, ফ্রিল্যান্সিং, ব্যবসায় পরিচালনা সহ নানাবিধ কাজে ডিজিটাল মার্কেটিং এর উপযোগিতা দিন দিন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর সেই জন্যই মানুষের মধ্যে ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শিখবো?

ডিজিটাল মার্কেটিং এর পরিসর অত্যন্ত ব্যাপক। আর সেই জন্যই ডিজিটাল মার্কেটিং শেখা একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রসেস। আপনি যত সময় এখানে ব্যয় করবেন ডিজিটাল মার্কেটিং এ আপনার দক্ষতা তত বাড়তে থাকবে। আর সেজন্যই ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে চাইলে প্রথমেই আপনাকে একটি স্থির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে এবং সে অনুযায়ী একটি দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন ব্লগ, ইউটিউব, সোশ্যাল মিডিয়া ইত্যাদি মাধ্যম থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং সম্বন্ধে প্রাথমিক ধারণা অর্জন করতে হবে। পরবর্তী ধাপে যে কোন ইনস্টিটিউট থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং এর উপরে একটি প্রফেশনাল কোর্স সম্পন্ন করা উচিত। স্কীল জবস, বি আই টি এম, SEO School BD, Creative IT Institute, Digital Vidya বাংলাদেশে ডিজিটাল মার্কেটিং ট্রেনিং এ প্রথম শ্রেণীর প্রতিষ্ঠান।

ডিজিটাল মার্কেটিং এ কি কি শেখানো হয়?

ডিজিটাল মার্কেটিং বলতে সাধারণভাবে আমরা সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বুঝলেও বাস্তবিকভাবে এর পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক। ওয়েবসাইট থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া, ইমেইল, মোবাইল এপ্লিকেশন, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন ইত্যাদি ডিজিটাল মার্কেটিং এর আওতাভুক্ত। নিচে ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলি সংক্ষেপে তুলে ধরা হল –

১। র্সাচ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন– এটির মাধ্যমে যেকোনো ওয়েব সাইট বা যেকোনো ওয়েব পেইজে কোনো সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে কতজন বা কি পরিমান মানুষ ভিজিট করছে তার মান উন্নত করা যায়।  এই ওয়েব সাইট ভিজিট-কে ওয়েব সাইট ট্রাফিকও বলা হয়ে থাকে।

২।সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং – এটি হচ্ছে সেই ধরনের মার্কেটিং যেটি সোশ্যাল   মিডিয়া প্লাটর্ফম বা কোনো ওয়েব সাইট ব্যবহার করে কোনো প্রডাক্ট বা সার্ভিসকে প্রমোট করা যায়। যেটি বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে গ্রাহকদের কাছে।

৩।ইমেইল মার্কেটিং- গ্রাহকদের কাছে ইমেইলের মাধ্যমে কম সময়ে আর সহজে কোনো প্রডাক্টের ব্যপারে জানানো যায়। যা বর্তমান সময়ে একটি জনপ্রিয় মাধ্যম।

৪। র্সাচ ইঞ্জিন মার্কেটিং- এটি একধরনের ইন্টারনেট মার্কেটিং যেটা সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে কোনো ওয়েব সাইটে  কি পরিমান ভিজিটর হয় সেটির প্রমোশন করে থাকে।

৫। কনটেন্ট মার্কেটিং- এই ধরনের মার্কেটিং সাধারণত বিভিন্ন কৌশলে করা হয়ে থাকে যেটির ফোকাসই থাকে কিভাবে কোনো প্রডাক্ট বা কোনো ওয়েব সাইটের বিষয়বস্তুকে সবথেকে ভালভাবে কিছু নির্দিশষ্ট গ্রাহকদের কাছে তুলে ধরতে পারে। এরফলে গ্রাহকরা সেই কনটেন্টর প্রতি আরও আগ্রহ পায়।

৬। ওয়েব এনালিটিক্স- এর মাধ্যমে ওয়েব ডাটা কালেক্ট করা, এনালাইসিস করা হয়ে থাকে যার ফলে কতটুকু বা কি  পরিমান ওয়েব সাইট ব্যবহার করা হয় তা জানা যায়। এছাড়াও এটি দিয়ে শুধু ওয়েব সাইট ট্রাফিক বা ভিজিটর পরিমাপ করা না এটি দিয়ে ব্যবসা বা মার্কেটও রির্সাচ করা যায়। ফলে একটা ওয়েব সাইটের কার্যকারিতাও বাড়ানো যায়।

৭। ইউটিউব মার্কেটি- ইউটিউব মার্কেটিং হচ্ছে একটি প্রসেস যেটার মাধ্যমে একেক জন গ্রাহকদের কাছে বিভিন্ন সোশ্যাল চ্যানেলের ব্যপারে জানানো হয়ে থাকে। এছাড়াও এই মার্কেটিংয়ে আপনি বিভিন্ন ধরনের চ্যানেলের লিংকও যুক্ত করতে পারেন।

জব, ফ্রিল্যান্সিং বা ব্যবসায় পরিচালনায় ডিজিটাল মার্কেটিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার মাধ্যমে মার্কেটিং চ্যানেল গুলোর সাথে সহজেই পরিচিত হওয়া যায়। ডিজিটাল মার্কেটিং আপনার গ্রাহকদের সাথে আপনার আরও ভাল সম্পর্ক তৈরি করতে সহায়তা করবে। এটির মাধ্যমে বেটার আরওআই (বিনিয়োগের রিটার্ন) এর সুযোগ রয়ে‍ছে। ডিজিটাল মার্কেটিং এর সঠিক প্রয়োগের ফলে কেউ সহজেই আপনার কোম্পানিকে সার্চ ইঞ্জিন থেকে খুজে বের করতে পারে। তাছাড়া, ভিডিও মার্কেটিং, যেটা আজকের যুগে সবচেয়ে প্রচলিত এবং গুরুত্বপূর্ণ মার্কেটিং ট্রেন্ডগুলির মধ্যে একটি, এর মাধ্যমে আপনার পণ্য ও সেবা সামগ্রী অত্যন্ত আকর্ষণীয় উপায়ে গ্রাহকদের কাছে তুলে ধরা সম্ভব।

বর্তমান সময়ে ডিজিটাল মার্কেটিং দ্রুত গতিতে প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলছে এবং ধারনা করা যাচ্ছে যে অদূর ভবিষ্যতে ডিজিটাল মার্কেটিং এ ব্যপক কাজ এবং চাকরির  সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এ কথা নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় যে আসন্ন বছরগুলোতে ডিজিটাল মার্কেটিং এ একটি বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হবে কারণ –

  • ডিজিটাল মার্কেটিং একটি নতুন এবং আধুনিক কর্মক্ষেত্র।
  • কমবেশি প্রায় প্রতিটি কোম্পানির জন্য বর্তমানে এটির প্রয়োজন সবথেকে বেশি।
  • সামনের বছরগুলোতে ডিজিটাল মার্কেটিং ফিল্ড এ প্রায় ৩-৪ লাখ বা তারও বেশি চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
  • ডিজিটাল মার্কেটিং এ ফ্রিলান্সিং করেও ভালো অর্থ আয় করা যায়।

বর্তমান সময়ে ছোট ব্যবসায় থেকে শুরু করে বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ডিজিটাল মার্কেটিং এর ব্যাপক ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। এছাড়াও মোবাইল ফোন বা মোবাইল ইন্টারনেটের মাধ্যমেও এই ধরনের ব্যবসা বেশ ভাল ভাবেই পরিচিতি পেয়েছে। কারন এর মাধ্যমে গ্রাহকরা সহজেই তাদের প্রয়োজনীয়  কাজ করতে পারে। এতে অনেক কম সময় লাগে। তাই বর্তমান সময়ে দিন দিন এর চাহিদা আরও বেড়ে চলেছে।

ফ্রিল্যান্সিং এর ক্ষেত্রে ও ডিজিটাল মার্কেটিং অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। আপওয়ার্ক বা ফাইভার এর মত মার্কেটপ্লেসগুলোতে ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কিত প্রচুর কাজ রয়েছে। তাই বর্তমানে যারা ফ্রিল্যান্সিং এ নিজেদের ক্যারিয়ার গড়তে চান তাদের অনেকেই ডিজিটাল মার্কেটিং শিখার দিকে ঝুঁকছেন।

সুতরাং এ কথা খুব সহজেই বলা যায় যে বর্তমান সময়ে ডিজিটাল মার্কেটিং অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি খাত এবং ভবিষ্যতে এর চাহিদা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.