বর্তমান সময়ে গ্রাফিক্স ডিজাইনের চাহিদা ব্যাপক। তাছাড়া গ্রাফিক্স ডিজাইনের মাধ্যমে যেকোন পণ্য বা সেবা সম্পর্কে টার্গেটেড কাস্টমারদের খুব সহজেই আকৃষ্ট করা যায়। সেজন্যই সকল প্রকার ন্যাশনাল এবং মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলো এখন ভিজুয়াল কন্টেন্ট মেকিং এর দিকে বেশী ঝুকছে।

সাধারণত, গ্রাফিক ডিজাইন বলতে আমরা বুঝি- কিছু ভিজুয়াল কন্টেন্টের মাধ্যমে কোনো কিছুকে বা কোনো ম্যাসেজকে গ্রাহকদের কাছে সহজ ও আর্কষনীয় ভাবে উপস্থাপন করা বা তুলে ধরা। আর প্রফেশনাল গ্রাফিক্স ডিজাইনিং-এ সাধারণত যেকনো কোম্পানির পণ্য, সেবা, ম্যাসেজ বা বিজ্ঞাপন সমূহকে ভিজুয়াল কন্টেন্টের মাধ্যমে মানুষের নিকট উপস্থাপন করা হয়।

একজন গ্রাফিক ডিজাইনার নানা ধরনের কাজের মাধ্যমে নিজের দক্ষতাকে ফুটিয়ে তুলতে পারে। বর্তমানের মার্কেটিং যুগে অফলাইন-অনলাইন দুইধরনের ব্যবসাতেই গ্রাফিক ডিজাইন এবং ডিজাইনারদের বেশ চাহিদা রয়েছে। তাই- নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, গ্রাফিক ডিজাইন শেখার মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন কাজকে পেশা হিসেবে নিতে পারি, যার কয়েকটির সংক্ষিপ্ত বর্ননা নিচে দেওয়া হলো-

১। মাল্টিমিডিয়া ডিজাইনার- গ্রাফিক ডিজাইন শেখার মাধ্যমে আপনি একজন মাল্টিমিডিয়া ডিজাইনার হিসেবে আপনার কাজের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারেন। এটি যিনি করে থাকেন তিনি সাধারণত আর্ট, সাউন্ড,ডিজাইনের সাহায্যে ভিডিও,অডিও, এবং এনিম্যাটেড ইমেজ বা ছবি বানিয়ে থাকেন। এছাড়াও, তাদের কাজের মধ্যে আরও রয়েছে পপ্স ডিজাইন করা,সেট- কস্টিউম ইত্যাদি তৈরি করা।

২। ওয়েব ইউআই ডিজাইনার- একজন ওয়েব ইউআই ডিজাইনারের কাজ হলো ওয়েবসাইটের ইউজার ইন্টারফেস ডিজাইনের মাধ্যমে ওয়েব সাইট ডিজাইন , সেটির পেজ সেট করা, লে-আউট তৈরি করা হয়।

৩। লোগো ডিজাইনার- সাধারনত একটা লোগো ডিজাইন করা হয়ে থাকে গ্রাফিক্যালি অথবা স্কেচের সাহায্যে। যেখানে, বিভিন্ন সিম্বল বা চিহ্ন, কালার, শেপ এর মাধ্যমে একটা কোম্পানির প্রডাক্ট বা র্সাভিসকে তুলে ধরা হয়। আর, এইসব কাজ যিনি করে থাকেন তাকেই সাধারণত লোগো ডিজাইনার বলা হয়ে থাকে।

৪। ব্যান্ড আইডিন্টিটি ডিজাইনার- গ্রাফিক ডিজাইন শেখার মাধ্যমে এই ক্ষেত্রটিও আপনি আপনার কাজের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিতে পারেন। সাধারণত ব্যান্ড আইডিন্টিটি ডিজাইন হচ্ছে কিছু ভিজুয়াল ইলিমেন্টসের রিপ্রেসেন্টেশন যেটার মাধ্যমে বোঝা যায় কিভাবে একটা কোম্পানি তাদেরকে রিপ্রেসেন্ট করতে চাই। হতে পারে এটি- বিজনেস র্কাড, সেটশনারি, মিডিয়া এডর্ভারটাইজিং, প্রমোশন ইত্যাদি।

৫। ক্রিয়েটিভ আর্ট ডিরেক্টর- একজন ক্রিয়েটিভ আর্ট ডিরেক্টরের কাজই হচ্ছে ক্রিয়েটিভ টিমকে দিক নির্দেশনা দিয়ে আর্ট ওয়ার্কগুলোকে সবথেকে আকর্ষনীয় করে ডিসপ্লে করা বা গ্রাহকদের সামনে তুলে ধরা যেটা হতে পারে- টেলিভিশন, বিলবোর্ড, ইন্টারনেট, বা কোনো ম্যাগাজিনে।

৬। ফটো এডিটির- গ্রাফিক ডিজাইন শেখার মধ্যে সবচেয়ে কার্যকরী হলো ফটো বা ছবি এডিটিং করা। একজন এডিটরের কাজ হলো একটা কোম্পানির কোনো প্রডাক্টকে কত সুন্দর করে ছবি তুলে সেটাকে এডিট করার মাধ্যমে সেটাকে গ্রাহকদের কাছে তুলে ধরা যায়।

৭। লে-আউট আর্টিস্ট – একজন লে-আউট আর্টিস্ট প্রিন্ট মিডিয়ার জন্য কিছু স্ট্রাকচার বা ছবির লেআউট তৈরি করে থাকে। যেটা হতে পারে ম্যাগাজিন, বুকস,সিডি বুক্লেটস বা পোস্টার্স। তাদের প্রধান কাজই হলো ছবিগুলোকে এমনভাবে সাজিয়ে তৈরি করা যার মাধ্যমে গ্রাহকরা কোনো কিছু পড়লে সেটা তাদের কাছে সহজ ও আর্কষনীয় হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.