প্রতিদিন সারাক্ষন, কারণ অথবা অকারণ, আমরা চালিয়ে যায় আমাদের কথোপকথন। একে অন্যের সাথে মনের ভাব আদান প্রদান এর জন্য আমরা কত কথাই না বলি। আমাদের কথার মধ্যে কিছু বিশেষ শব্দ অত্যন্ত সচেতন ভাবে উপস্থাপন করতে পারলে সেটা মানুষের হৃদয়ে অনুভূতির সৃষ্টি করে। আর এখানেই যোগাযোগের সার্থকতা, তাই Communication Skill টাকে আরও সমৃদ্ধ করতে হলে আমাদের ভাষায় ব্যাবহত শব্দের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। নিল স্ট্রাস নামে একজন লেখক তার বিখ্যাত ‘দ্য গেম’ বইতে দেখিয়েছেন যদি সঠিকভাবে কথা বলা যায় তাহলে তা অন্য লোকদের উপর অসাধারণ প্রভাব ফেলে। কিছু শব্দ এতটায় শক্তিশালী যে তা সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারলে মানুষের হৃদয় ছুয়ে যায়। আজ তেমনি ৫টি শব্দ আপনাদেরকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেব।

প্রথম শব্দটি হলো ‘এখন’ ।

এই শব্দটির মধ্যে লুকিয়ে আছে একটি ব্যপক তাড়না। এটা যখন আপনি শুনবেন তখন এর মানে হলো এ অনুরোধটি বা কাজটি আপনাকে এক্ষুনি করতে হবে। আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বিজ্ঞাপণ চিত্রে এ ধরনের শব্দের ব্যবহার দেখতে পায়। যেমন, Call Now, Register Now, Shop Now, Book Now ইত্যাদি। অধিকাংশ টেলিভিশন বিজ্ঞাপন গুলোতে এই ‘এখন’ শব্দটি অত্যন্ত সুনিপুণ ভাবে উপস্থাপন করা হয়। এতে কাস্টমার রা ঐ পণ্যটি কেনার ব্যাপারে এক ধরনের তাগিদ অনুভব করেন।

দ্বিতীয় শব্দটি হলো ‘কারণ’

ছোটবেলায় আব্বু বলতেন দুপুরের রোদে বাইরে খেলতে যেওনা । আমি বলতাম, আমি তো শুধু – – -। জীবন, আমি বলেছি না বাইরে যাওয়া যাবে না। কিন্তু কেন আব্বু? এরপর আব্বু বলতেন ‘ কারণ আমি বলেছি।’ তখন থেকেই বুঝতাম কারণ শব্দটির মানে হল এটাই চুড়ান্ত রায়। এর পরে আর কোনো প্রশ্ন করা যাবে না।

আপনি যদি কাউকে কোন অনুরোধ করে তার পেছনে একটি কারণ যোগ করে দিতে পারেন তাতে আপনার অনুরোধ রক্ষা হওয়ার সম্ভাবনা দারুনভাবে বেড়ে যায়। রবার্ট সিয়ালডিনি তার বই, ‘Influence: The Psychology Persuasion’ বইতে বলেছেন, ‘ মানুষের আচারনের একটি বহু প্রচলিত নীতি হলো যদি আমরা কাউকে আমাদের একটি উপকার করতে বলি তাহলে সেটি সফল হবে যদি এর পেছনে একটি কারণ খাড়া করতে পারি। মানুষ যা করে তার পেছনে কারণ দেখতে চায়।’

তৃতীয় শব্দটি হলো ‘প্লিজ’।

মনোগত ভাবে এই শব্দটি দিয়ে  যেকোন আদেশ বা নির্দেশকে কোমল করে দেওয়া যায়। আমরা বন্ধু-আত্নীয় মহলে কিংবা অফিসিয়াল কাজে এই শব্দটা প্রায় ব্যাবহার করে থাকি। প্লিজ শব্দটার মাঝে এক ধরনের ম্যাজিক লুকিয়ে আছে। যখন আমরা এটা কাউকে বলি তখন ঐ মানুষটি ভালো বোধ করেন এবং বিনিময়ে তারা আমাদেরকে পছন্দ করেন। জীবন চলার পথে অনেক জটিল সমস্যা এই শব্দটি ব্যাবহারের মাধ্যমে সমাধান করা যায়।

চতুর্থ শব্দটি হলো ‘সরি’

দুটি অক্ষরের এই ছোট শব্দটির মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে বৃহৎ এবং জটিল সমস্যা সমাধানের এক বিস্ময়কর জাদু। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, অথবা পরিবারের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ কিংবা মান অভিমান এর মত অস্বস্তিকর পরিস্থিতি নিমিষেই সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে বদলে ফেলা যায়। শুধু সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় এই মিরাকেল শব্দটি ব্যাবহারের মাধ্যমে। 

পঞ্চম শব্দটি হলো ‘থ্যাংক ইউ’।

অত্যন্ত শক্তিশালী এবং ইতিবাচক একটি শব্দ ‘থ্যাংক ইউ’। সাইকোলজিতে ‘থ্যাংক ইউ’ কথাটিকে ব্যাখা করা হয়েছে পারস্পরিক বিনিময় বা প্রতিদান হিসেবে। এটি ব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের প্রতি অন্যদের মনে একটি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়। ছোট ছোট কাজের প্রশংসা স্বরূপ থ্যাংক ইউ বলাটা খুবই জরুরী। কাজের প্রতিদান হিসেবে কাউকে থ্যাংক ইউ বললে সে পরবর্তীতে আমাদেরকে আরও সাহায্য করতে আগ্রহ বোধ করে। কেউ যদি আপনাকে কোন উপহার দেয়, নিশ্চয় আপনি তখন তাকেও কোন উপহার দেওয়ার একটা তাগিদ অনুভব করেন। 

আমাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে মানুষের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই ৫টি শব্দ সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারলে সহজেই অন্যের মনে স্থান করে নেওয়া যাবে। এতে মানুষের সাথে হৃদ্যতার সম্পর্ক তৈরি হবে। আমাদের Communication Skill হবে আরো সমৃদ্ধশালী ।

Visit www.skill.jobs for hundreds of job opportunities

লিখেছেনঃ শাহানুর আলম জীবন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.