সরকারি চাকরির প্রস্তুতি - করণীয় কি?

সরকারি চাকরির প্রস্তুতি (Preparation for Govt jobs )করণীয় কি?

বাংলাদেশের প্রায় বেশিরভাগ মানুষেরই সরকারি চাকরি / Govt Jobs করার ইচ্ছা থেকে থাকে। আর সে জন্যই যারা সরকারি প্রত্যাশী তাদের বেশ ভালো প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হয়।  সরকারি চাকরির প্রস্তুতির/ Govt Jobs preparation এর জন্য বিশেষ কিছু প্রসেস অনুসরণ করা উচিত,যার ফলে আপনি সেসব চাকরির লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষা একটা ভাল রেজাল্ট আশা করতে পারেন।

এইধরনের চাকরির প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আপনার অনেকবারই মনে হতে পারে আপনাকে দিয়ে আর হবে না, আপনি পারছেন না, বিষয়গুলো আপনার কাছে অনেক জটিল বলে মনে হচ্ছে কিন্তু আপনি যদি একটু নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখেন তাহলে আপনি অবশ্যই সেসব সময় বা বিষয়কে সহজেই পার করতে পারবেন

** কখন থেকে প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত?

আপনারা যারা সরকারি চাকরি / Govt Jobs করতে চান তারা আপনাদের অর্নাস শেষ হবার আগে থেকেই চাকরির প্রস্তুতি নিতে পারেন। এতে করে আপনারা বেশ ভাল একটা সময় পেয়ে যাবেন এর মধ্যে। যেহেতু, যেকোনো সরকারি চাকরির জন্য বেশ ভালই প্রস্তুতি নেওয়া লাগে তাই সেসব প্রস্তুতি যত আগে থেকে শুরু করা যায় ততই ভালো।

সরকারি চাকরির প্রস্তুতির (Govt Jobs preparation) ক্ষেত্রে কিছু প্রাথমিক টিপস

**পড়ার জন্য রুটিন তৈরি করা– যেকোন পড়াশোনার ক্ষেত্রেই রুটিন প্রস্তুত করে সে অনুযায়ী পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া। এতে টাইম ম্যানেজমেন্ট অনেক ভালোভাবে করা যায়। দৈনিক কোন কোন বিষয়ের জন্য কতটুকু সময় বরাদ্দ থাকবে তা ঐ বিষয়ের পরিধির উপর নির্ভর করে। সাধারণত সরকারী জব এর ক্ষেত্রে বাংলা, ইংরেজি, ম্যাথ, ইন্টারন্যাশনাল বিষয়বলি, সাধারণ জ্ঞান এর বিষয় সমূহ থাকে।

** র্দীঘমেয়াদী প্রস্তুতি– যেকোন জব এর প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে একটি দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি গ্রহণ করা। আর এর জন্য প্রয়োজন প্রচুর ধৈর্য। অনেকেই আছেন প্রথম কিছু দিন প্রচুর পড়াশোনা করেন কিন্তু ইনিশিয়াল এক্সসাইট্মেন্ট শেষ হয়ে যাওয়ার পর আর তেমন পড়াশোনা করেন না। এইভাবে ভালো জব পাওয়া সম্ভব না। তাই, যারা সরকারী চাকুরী প্রত্যাশী তাদের উচিত একটি দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি গ্রহণ।

**লক্ষ্য নির্ধারন করা – আপনার একাডেমিক বা আনুষাঙ্গিক যোগ্যতা অনুসারে আপনার চাকরির লক্ষ্য নির্ধারন করা উচিত। আপনি হয়ত অনেক সরকারি চাকরির জন্যই এপ্লাই করবেন,কিন্তু সেখান থেকে আপনার টার্গেট বা লক্ষ্য থাকবে ২/৩টা। এতে করে আপনার প্রস্তুতিও ভালো হবে এবং আপনি একটি ভালো ফলাফল আশা করতে পারবেন।

** বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা– আপনি যে বিষয়ে পড়াশুনা করেছেন সেই বিষয়ের সিনিয়রদের সাথে বা পরিচিত মানুষদের সাথে একটা ভালো যোগাযোগ বজায় রাখা উচিত। যার ফলে, চাকরির ক্ষেত্র, পরিবেশ, অবস্থা, ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন। কোন ধরনের চাকরির জন্য কি ধরনের প্রস্তুতি দরকার তা খোজ খবর নিন।

** আত্মবিশ্বাস– এইধরনের চাকরির প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আপনার অনেকবারই মনে হতে পারে আপনাকে দিয়ে আর হবে না, আপনি পারছেন না, বিষয়গুলো আপনার কাছে অনেক জটিল বলে মনে হচ্ছে।কিন্তু আপনি যদি একটু নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখেন তাহলে আপনি অবশ্যই সেসব সময় বা বিষয়কে সহজেই পার করতে পারবেন।

**সি.ভি বা জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করা– সরকারী বা বেসরকারি চাকরি আবেদন করার  সময় যেটা বেশ গুরুত্বপূর্ন হলো সেটি আপনার সি.ভি তৈরি করা। এটি আপনার চাকরি পাবার ক্ষেত্রে প্রথম ইম্প্রেশন তৈরি করবে, তাই এটিতে সবসময় সবধরনের সঠিক তথ্য যুক্ত করুন। কিভাবে একটি ভালো সি,ভি বানাবেন সেটি আপনি অনলাইনে দেখলেই পেয়ে যাবেন বা পরিচিত যারা আগে থেকে জানে তাদের সাহায্যও নিতে পারবেন।

**সাম্প্রতিক বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া– সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বিষয়গুলো থেকে প্রায় প্রতি বছর বেশ ভালো প্রশ্ন আসে। তাই, কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স বা বিভিন্ন পত্রিকা নিয়মিত চর্চা করা উচিত।

** বিগত বছরের প্রশ্নাবলি– চাকরির পরীক্ষার জন্য বিগত বছরের প্রশ্নগুলির সমাধান করা উচিত। কারন, প্রায় প্রতি বছর বিগত বছরের প্রশ্ন থেকে বেশ অনেক কমন পরে থাকে। তার থেকেও বড় ব্যাপার হচ্ছে এর ফলে আপনি প্রশ্নের প্যার্টান সম্পর্কে জানতে পারবেন।

** বিভিন্ন ধরনের পাঠ্য বই– চাকরির পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন বই পাওয়া যায়। যার মধ্যে রয়েছে আজকের বিশ্ব, নতুন বিশ্ব, এমপিথ্রি, জ্ঞানকোষ, মেটিক্স, ক্যারিয়ার এইড, কনফিডেন্স ইত্যাদি। এগুলোতে আপনি আপনার চাকরি সম্পর্কিত সব ধরনের তথ্য পাবেন।

**টাইম ম্যানেজম্যান্ট শেখা– প্রস্তুতির শুরু থেকে আপনাকে সময়ের ব্যাপারে কিছু  জিনিষ লক্ষ্য রাখতে হবে যে, কতটুকু সময় লাগছে আপনার কোন সাব্জেক্ট শেষ করতে, আপনি কিছু নমুনা পরীক্ষাও দিতে পারেন নিজে নিজে যার ফলে আপনি বুঝতে  পারবেন কতটুকু সময় আপনার  লাগবে প্রতিটা প্রশ্ন শেষ করতে আর কতটা সময় হাতে বাকি আছে।

**এক্সট্রা কিছু প্রস্তুতি নেওয়া– আপনি যে নির্দিষ্ট পরীক্ষাটি দিবেন আগে থেকেই সেই পরীক্ষার সময়,দিন,বার এগুলো লক্ষ্য রাখতে হবে। বছরে কতবার চাকরির পরীক্ষা হয়, কোন কোন সেক্টরে পরীক্ষা হয়,নিয়োগের ধরন সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। এছাড়াও, আপনার চাকরির পরীক্ষা বিষয়ক কি কি দূর্বলতা বা কি কি নিজস্ব ভাল দিক রয়েছে সে বিষয়েও খেয়াল রাখতে হবে। পরীক্ষা বিষয়ক কোন কোন সাব্জেক্টগুলোতে আপনার আরও চর্চা করা লাগবে সেটিও দেখতে হবে। মূল বিষয়গুলোতেও ফোকাস করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.