কেন করবেন ডিজিটাল মার্কেটিং

ডিজিটাল মার্কেটিং দুইটি শব্দ, শব্দ দুটি শুনেই আমাদের মাথায় প্রথমেই আসতে পারে ডিজিটাল পদ্ধতিতে যে মার্কেটিং করা হয়। যদি ভেঙে বলি শব্দ দুটোকে ডিজিটাল বলতে আমরা মূলত ইনটারনেটের জগৎকে বুঝি এবং মার্কেটিং দিয়ে কোন পণ্যকে বাজারে তার চাহিদা অনুযায়ী বিজ্ঞাপনসহ বাজারে বিক্রয় করার প্রক্রিয়াকে বুঝায়। শুধু ডিজিটার মার্কেটিং এর মাধ্যমেই ডিজিটাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্রযুক্তি কে ব্যবহার করে অনলাইন/ইন্টারনেট এর মাধ্যমে পণ্য বা সেবার বিক্রয় কাজ বৃদ্ধি করা যায়।

অনেকে মনে করেন ডিজিটাল মার্কেটিং তাদের ব্যবসায় দরকার নেই। আমরা যে সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি সে সময়টাতে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমেই নতুম ক্রেতাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে ব্যবসায় টিকে থাকা সম্ভব। সুতরাং ব্যবসার এই প্রতিযগিতাতে টিকে থাকতে ডিজিটাল মার্কেটিংযের গুরুত্ব অপরিসীম।

তাহলে এখন আসি কেন করবেন ডিজিটাল মার্কেটিং???? ডিজিটাল মার্কেটিং কীভাবে শিখবেন বিস্তারিত জানতে হলে পড়ুন “ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শিখব | How to learn Digital Marketing?”

  • করোনাকালীন প্রভাবঃ

আমাদের অস্বীকার করার কোন অবকাশ নেই করোনাতে আমরা অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হইয়েছি। আমাদের অনেকের চাকরি চলে গিয়েছে, অনেকের ছোট ব্যবসা ছিল সেটা ক্রেতার অভাবে বন্ধ হইয়ে গিয়েছে। এমন সময়ে অনেকেই অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা গড়ে তোলার ট্রাই করেছেন। কিন্তু সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জের হচ্ছে এত এত নতুন ব্যবসার মধ্যে আপনার ব্যবসাটাকে কিভাবে সর্বোচ্চ সংখ্যক ক্রেতার কাছে পোঁছাবেন? কিভাবে আপনার ব্যবসার প্রসার বৃদ্ধি করবেন? পোঁছানোর পরেও কথা থেকে যায়, আপনার প্রোডাক্ট বা পণ্যকে আপনি কতটা আকর্ষনীয় ভাবে উপস্থাপন করতে পারছেন? কিভাবে অন্যদের থেকে আলাদা করবেন আপনার প্রোডাক্ট বা পন্যকে ক্রেতাদের কাছে? ক্রেতার এই ইনগেজমেন্ট কিন্তু আপনাকেই বৃদ্ধি করতে হবে। ব্যবসায় ক্রেতার ইনগেজমেন্ট যত বাড়াতে পারবেন তত মুনাফা। আর ব্যবসায় মুনাফা মানেই উন্নতির সূচনা।

  • ক্রেতারা অনলাইন নির্ভরশীল হচ্ছেনঃ

করোনা পরবর্তী সময় বলে না, ক্রেতারা অনলাইন ভিত্তিক কেনাকাটাতে ঝুঁকছেন বেশি। সেটা অবশ্যই সময় ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের জন্য। ক্রেতা কোন পণ্য কেনার আগে অবশ্যই যাচায় করে দেখবে। পণ্যের গুনাবলী কি? পণ্য ব্যবহারের ফলে কি কি সুযোগ সুবিধা পাবেন? একই ধরনের পণ্য কে কিভাবে উপস্থাপন করছেন? কি কি পার্থক্য তাদের মধ্যে? কেউ কি এই একই পণ্য ব্যবহার করেছেন কি না? কে কেমন রিভিউ দিচ্ছে? পজেটিভ নাকি ণেগেটিভ রিভিউ?সব কিছুই একজন ক্রেতা এখন খুব সহজেই জেনে ফেলছেন বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে হাতের মুঠোফোনটি দিয়ে। ক্রেতা একটি পণ্য কেনার আগে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে পণ্যের তথ্য (ছবি, সুবিধা, কোন কোম্পানির) পেয়ে থাকেন। কোন একটি পণ্যের পজেটিভ রিভিউ দেখলে সেই পণ্যটি কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতার ইচ্ছা কয়েক গুন বেড়ে যায়। যেহেতু ক্রেতারা ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করছে সেহেতু আপনাকে আপনার ব্যবসাটিকেও ডিজিটালি উপথাপন করতে হবে। যেন অনলাইনে খুব সহজেই আপনার পণ্যের তথ্য গুলো ক্রেতার কাছে পোঁছে যায়। তবেই তো ব্যবসার প্রসার বাড়বে।

  • ক্রেতাদের সাথে খুব সহজেই সম্পর্ক স্থাপনঃ

যার ক্রেতার সাথে সম্পর্ক যত ভালো তার ব্যবসায় তত উন্নতি। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে ক্রেতার সাথে এই সম্পর্ক তৈরি করা সম্ভব। বিভিন্ন ডিজিটাল প্লার্টফর্মের (ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেইজ, ইউটিউব, ব্লগ) মাধ্যমে সরাসরি ক্রেতাদের সাথে যুক্ত থেকে তাদের ভাল লাগা, মন্দ লাগা, পছন্দ, অপছন্দ সম্পর্কে বিস্তারিত মতামত জানা যায় এবং সেটার উপর নির্ভর করে পণ্যের মান পরিবর্তন করা যায়। আপনি আপনার পণ্যটিকে ক্রেতার রিভিউয়ের উপরে নির্ভর করে কাস্টোমাইজ করছেন এতে আপনার ক্রেতারাও খুশি সাথে ব্যবসার উন্নতি।

  • সল্প খরচে মার্কেটিং করাঃ

তথাকথিত বা গতানুগতিক মার্কেটিংয়ের চেয়ে খুব কম ব্যয়ে ডিজিটার মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে আপনার পণ্যের টার্গেটেট ক্রেতা পেয়ে যাচ্ছেন। ফেসবুকে বুস্টের মাত্র কিছু ডলার ব্যয় করে আপনি আপনার পণ্যটি আপনার টার্গেটেট ক্রেতার কাছে পোঁছে যাচ্ছে সেটাও আবার ক্রেতার বয়স, এলাকা, পেশা, আগ্রহের উপর ডিপেন্ড করে। ডিজিটাল মার্কেটিং দিচ্ছে কম খরচে সর্বাধিক মুনাফা অর্জনের সুযোগ তাহলে আপনি কেন সেই সুযোগ আপনার ব্যবসার জন্য কাজে লাগাবেন না?

  • ট্র্যাক ঠিক করে এগিয়ে যাওয়াঃ

আপনি যা কিছু করবেন অবশ্যই তার একটা রেজাল্ট থাকবে। আপনি ফেসবুকে বা ইউটিউবে যে মার্কেটিং করলেন আপনার পণ্যের তা কতজনের কাছে পোঁছিয়েছে তা কিন্তু আপনি খুব সহজেই জানতে পারছেন। কতজন আপনার পণ্য পছন্দ করছেন সেটার ফলাফলও পেয়ে যাবেন। কিন্তু তথাকথিত  মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে সেটা জানতে পারা সম্ভব না। আপনার পন্যের কিছু পোস্টার কোথাও আছে সেটা আদতে কোন মানুষ দেখছে কিনা সেটা আপনি কিভাবে ট্র্যাক করবেন? অপরদিকে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মোটামুটি সব দিক ট্র্যাক করা সম্ভব। এমনকি কোনো মার্কেটিংয়ের ভালো ফিডব্যাক না হইলে আপনি মার্কেটিং স্ট্রেটেজি পরিবর্তনও করতে পারছেন। খরচ কমবে মার্কেটিংয়ে আর আপনার ব্যবসা পাবে সাফল্য।

  • সহজেই ট্রেন্ড চিহ্নিত করা সম্ভবঃ

ট্রেন্ড খুব গুরুত্বপূর্ণ বিশেষত ব্যবসার ক্ষেত্রে। আজকাল ক্রেতারা ডিজিটাল মিডিয়ার মাধ্যমে খুব সহজেই কি ট্রেন্ড চলছে সেটা জেনে যান। আর এই ট্রেন্ড কিন্তু সবসময় পরিবর্তনশীল। সুতরাং আপনার ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী আপনার পন্যটিও হতে হবে ট্রেন্ডি। আর কি ট্রেন্ড চলছে সেটা জানার জন্য আপনাকে সব সময় নজর রাখতে হবে  ডিজিটাল মিডিয়া গুলোতে।

যদি সংক্ষেপে বলতে চাই কেন করবেন ডিজিটাল মার্কেটিং তবে বলা যায়, আপনার ব্যবসাটি যত ছোট বা বড়ই হোক না কেন, যদি সেটা ডিজিটালাইজ করেন তবে সেই তথ্য ক্রেতা দেশ এবং আন্তর্জাতিক ভাবে রিচ করা পসিবল। এতে করে আপনার ব্যবসার প্রচার ও প্রসার সাথে মুনাফা বৃদ্ধি পাবে। কথায় আছে না প্রচারেই প্রসার। আর এই প্রচারের স্ট্রেটেজিটাই আসে ডিজিটাল মার্কেটিং থেকে। এখন ডিসিশন আপনার, আপনি আপনার ব্যবসার মুনাফা কোন পর্যায়ে দেখতে চান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.